লাইভ মার্কেট রেট: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
হোম › হলমার্ক ও ক্যারেট গাইড

আসল হলমার্ক ও ক্যারেট চেনার সহজ উপায় (916, 875, 750 গাইড)

স্বর্ণের গহনা কেনার আগে কীভাবে খাঁটি হলমার্ক চিহ্নিত করবেন, ক্যারেটের হিসাব বুঝবেন এবং নকল সোনার প্রতারণা থেকে নিজেকে রক্ষা করবেন তার বিস্তারিত গাইড।

২২ ক্যারেট STAMP: 916

৯১.৬% খাঁটি সোনা

বিশুদ্ধতা91.6%

১০০০ ভাগের মধ্যে ৯১৬ ভাগ খাঁটি স্বর্ণ এবং বাকি ৮৪ ভাগ তামা/রুপা। বাংলাদেশে এটি গহনার সবচেয়ে জনপ্রিয় মান।

২১ ক্যারেট STAMP: 875

৮৭.৫% খাঁটি সোনা

বিশুদ্ধতা87.5%

১০০০ ভাগের মধ্যে ৮৭৫ ভাগ খাঁটি স্বর্ণ। ২২ ক্যারেটের চেয়ে সামান্য শক্ত হওয়ায় সূক্ষ্ম নকশার কাজের জন্য চমৎকার।

১৮ ক্যারেট STAMP: 750

৭৫.০% খাঁটি সোনা

বিশুদ্ধতা75.0%

১০০০ ভাগের মধ্যে ৭৫০ ভাগ খাঁটি স্বর্ণ। ডায়মন্ড ও রত্নপাথর বসানোর জন্য আদর্শ, যা সহজে বাঁকা বা নষ্ট হয় না।

সনাতন সোনা আনসার্টিফাইড

৫০-৬০% খাঁটি সোনা

বিশুদ্ধতা~55%

প্রাচীন সনাতন গলানো পদ্ধতির সোনা। এতে কোনো সরকারি বা আন্তর্জাতিক হলমার্ক সিল থাকে না।

হলমার্ক কী এবং কেন এটি এত জরুরি?

হলমার্ক (Hallmark) হলো কোনো মূল্যবান ধাতুর (স্বর্ণ বা রৌপ্য) বিশুদ্ধতা ও মানের অফিসিয়াল সরকারি অনুমোদন ও লেজার সিল। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (BAJUS) এবং বিএসটিআই (BSTI) অনুমোদিত টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে এক্স-রে ফ্লুরোসেন্স (XRF) মেশিনে পরীক্ষা করে গহনার গায়ে এই সিল খোদাই করা হয়।

হলমার্কযুক্ত গহনায় কী কী সিল দেখতে পাবেন?

  1. বিশুদ্ধতার নম্বর (Purity Mark): যেমন 916 (২২ ক্যারেট), 875 (২১ ক্যারেট), 750 (১৮ ক্যারেট)।
  2. অ্যাসেয়িং সেন্টারের লোগো: যে সরকারি বা অনুমোদিত ল্যাবরেটরি সোনা পরীক্ষা করেছে তাদের বিশেষ লোগো।
  3. জুয়েলার্স আইডেন্টিফিকেশন মার্ক: যে ব্র্যান্ড বা দোকান থেকে গহনাটি তৈরি হয়েছে তাদের নিজস্ব সিল।
  4. সাল বা কোড: যে বছর অলঙ্কারটি হলমার্ক করা হয়েছে সেই বছরের আলফানিউমেরিক কোড।

খাঁটি সোনা চেনার ৪টি নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা:

  • ১. ম্যাগনেট টেস্ট (চুম্বক পরীক্ষা): খাঁটি স্বর্ণ কখনো চুম্বক দ্বারা আকর্ষিত হয় না। যদি আপনার গহনা চুম্বকে আটকে যায়, তবে নিশ্চিত এতে লোহা বা নিকেলের খাদ মেশানো হয়েছে।
  • ২. গ্লাস বা ম্যাগনিফাইং গ্লাস পরীক্ষা: একটি ১০x ম্যাগনিফায়ার লেন্স দিয়ে গহনার হুক, লকেট বা আংটির ভেতরের অংশে '916' বা '875' সিলটি স্পষ্ট দেখতে পাবেন।
  • ৩. নাইট্রিক এসিড টেস্ট: সনাতন স্বর্ণকাররা কষ্টিপাথরে সোনা ঘষে নাইট্রিক এসিড দেন। খাঁটি সোনা এসিডে বিক্রিয়া করে না বা বর্ণ পরিবর্তন করে না।
  • ৪. ডিজিটাল ডেনসিটি বা XRF স্পেকট্রোমিটার পরীক্ষা: বর্তমানে দেশের আধুনিক জুয়েলার্সগুলোতে মুহূর্তেই কোনো ক্ষতি ছাড়া কম্পিউটারের মাধ্যমে ৯৯.৯% নিখুঁতভাবে সোনার ক্যারেট ও খাদ পরিমাপ করা যায়।